ফের ভূমিকম্প উত্তর-পূর্ব। সোমবার কেঁপে উঠল অসমের নগাঁও। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৪.৩। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পের উৎসস্থল বলে জানা যাচ্ছে। এনিয়ে চলতি মাসেই অসমে সাতবার ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে গিয়েছে। যার মধ্যে নগাঁও জেলাতেই কেঁপে উঠেছে তিনবার। সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, ভূমিকম্পের কারণে এখনও প্রাণহানির কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ১২টা ৯ মিনিটে ভূমিকম্পটি হয়েছে। রিখটার স্কেলে যার তীব্রতা ছিল ৪.৩। এর উৎসস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পটি অসমের নগাঁও ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অনুভূত হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে।
চলতি মাসে নগাঁও জেলায় এটি তৃতীয় ভূমিকম্প। এর আগে গত ৭ আগস্ট ৩.৮, এবং তার পরের দিন অর্থাৎ ৮ই আগস্ট ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ২.৮। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগস্ট মাসে এ পর্যন্ত অসমে মোট সাতবার ভূমিকম্প হয়েছে, যেগুলির তীব্রতা ছিল ২.৮ থেকে ৪.৩ এর মধ্যে।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক অতীতে বিশ্বের বহু জায়গায় একাধিকবার ভূমিকম্প হয়েছে। রবিবারই ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি এলাকায় ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে। যার তীব্রতা ছিল ৬। পাশাপাশি পূর্ব আলজেরিয়ার তেবেসা প্রদেশেও ভূমিকম্পের ফলে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খেনচেলা, সৌক আহরাস,এল এল ওয়েদে ভূমিকম্প অনুভব করেছেন বহু মানুষ। নেপালের রামেছাপ জেলায় ভূমিকম্প হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও কোনও ভূমিকম্পের কারণেই তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেই সূত্রের খবর।
প্রসঙ্গত, গত ১০ জুলাই রাশিয়ার কামচাটকায় ৮.৮ তীব্রতার ভূমিকম্প জোর আঘাত হানে। যে কারণে সুনামিরও সৃষ্টি হয়। আমেরিকার বহু জায়গায় বেশ কিছু অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়। গোটা বিশ্ব জুড়ে ভূমিকম্পের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কলকাতাবাসীর কপালেও পড়ছে চিন্তার ভাঁজ।
তবে অসমে ঘটে যাওয়া একের পর এক ভূমিকম্পের ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কারণ, দেশের মাথায় রয়েছে গিরিরাজ হিমালয়। পার্বত্য এলাকায় ভূমিকম্প হলে তার প্রভাব এ শহরে পড়ারও যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন ভূবিজ্ঞানীরা। কলকাতাতেও এর আশঙ্কা রয়েছে।